একবার এক গ্রামে একটি দয়ালু কৃষক বাস করত। তার নাম ছিল রামু। রামু খুব ভালো মানুষ ছিল এবং সব সময় গরীব ও অসহায়দের সাহায্য করত। একদিন, তিনি মাঠে কাজ করতে গিয়ে একটি ছোট বিড়ালছানাকে দেখতে পেল। বিড়ালছানাটি কাঁদছিল এবং ভীষণ ভয় পেয়েছিল। রামু তা দেখে বিড়ালছানাটি কোলে তুলে নিল এবং বাড়িতে নিয়ে এল।
রামু বিড়ালছানাটিকে তার বাড়িতে পরিচর্যা করতে লাগল। তাকে দুধ খাওয়াল, গরম শোয়া জায়গা তৈরি করে দিল এবং অনেক যত্ন নিল। বিড়ালছানাটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠল এবং শক্তিশালী হল।
কিন্তু বিড়ালছানা যখন বড় হলো, তখন সে রামুর প্রতি আর আগের মতো কৃতজ্ঞ থাকল না। তার মন ছিল একেবারে বদলে গিয়েছে। সে রামুর বাড়ির খাবার খেত, কিন্তু যখন রামু তাকে কিছু সাহায্য করতে বলত, তখন বিড়ালছানা এড়িয়ে চলত। সে খুবই অহঙ্কারি হয়ে উঠেছিল এবং রামুর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করত।
একদিন, রামু কৃষি কাজের জন্য মাঠে গেল, এবং বিড়ালছানাটি তার বাড়ির সামনে বসে ছিল। কিছু সময় পরে, বিড়ালছানা হঠাৎ একটি ছোট পাখি দেখতে পায় এবং সেটিকে তাড়া করে। কিন্তু পাখিটি একটি গাছের ডালে উঠতে পারে, আর বিড়ালছানাটি নিচে পড়ে যায় এবং আঘাত পায়।
বিড়ালছানা তখন খুব কাঁদতে থাকে। রামু বাড়ি ফিরে এসে বিড়ালছানাটিকে কাঁদতে দেখে, দয়া করে আবার তার কোলে তুলে নিয়ে যায়। সে বিড়ালছানাকে ভালো করে চিকিৎসা করল এবং বলল, “আমি জানি তুমি এখনো আমার সাহায্য চাইছো, তবে মনে রেখো, সবার আগে কৃতজ্ঞতা মনে রাখা উচিত।"
বিড়ালছানা তখন কিছুটা বুঝতে পারে। যদিও সে আগে রামুর প্রতি অকৃতজ্ঞ ছিল, এখন সে জানতে পারে যে, দয়া ও সহানুভূতির মূল্য অনেক বড়।
এভাবে, বিড়ালছানা রামুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শিখল এবং তাদের বন্ধুত্ব আবার আগের মতোই শক্তিশালী হয়ে উঠল।
শিক্ষা: কৃতজ্ঞতা এবং দয়া মানুষের সম্পর্ককে মজবুত করে, এবং অহংকার মানুষের উন্নতি বন্ধ করতে পারে।

No comments:
Post a Comment