Monday, December 30, 2024

একটি তৃষ্ণার্ত পিঁপড়া এবং একটি ঘুঘু

 একদিন এক তৃষ্ণার্ত পিঁপড়া গরম দুপুরের রোদে পানির খোঁজে বের হয়। চারিদিকে খুঁজতে খুঁজতে সে একটি নদীর কাছে পৌঁছায়। কিন্তু নদীর তীর বেশ খাড়া ছিল, আর ছোট্ট পিঁপড়ার পক্ষে নিচে নেমে পানি পান করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

পিঁপড়াটি হতাশ হয়ে ভাবতে লাগল, “এখন আমি কী করব? এত কাছে পানি, অথচ আমি পান করতে পারছি না!”

সেই সময়ে, একটি ঘুঘু কাছের একটি গাছের ডালে বসে সবকিছু দেখছিল। ঘুঘুটি পিঁপড়ার অসহায় অবস্থা দেখে দয়িত হয়ে গেল। সে দ্রুত একটি পাতা ছিঁড়ে নদীতে ফেলে দিল। পিঁপড়াটি সেই পাতার উপর উঠে পানি পান করল এবং তার জীবন বাঁচল।

পিঁপড়াটি ঘুঘুর দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতার সাথে বলল, “তোমার সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ, বন্ধু। আমি কখনো এটি ভুলব না।”

কিছুদিন পর, সেই পিঁপড়াটি জঙ্গলে খাবার খুঁজছিল। হঠাৎ সে দেখতে পেল এক শিকারি একটি জাল নিয়ে ঘুঘুটিকে ধরার পরিকল্পনা করছে।

পিঁপড়াটি বুঝতে পারল যে, এটি ঘুঘুর জীবনকে বিপদের মুখে ফেলবে। সে তৎক্ষণাৎ শিকারির পায়ে উঠে তাকে কামড় দিয়ে দিল। ব্যথায় শিকারি চিৎকার করে উঠল এবং তার জালটি মাটিতে ফেলে দিল। ঘুঘুটি সেই সুযোগে উড়ে গেল।

পরে ঘুঘুটি পিঁপড়াটির কাছে এসে বলল, “তুমি আমার জীবন বাঁচালে। আমি কখনো এটি ভুলব না।”

তখন থেকে, পিঁপড়া এবং ঘুঘু প্রকৃত বন্ধু হয়ে গেল। তারা একে অপরকে শেখাল যে, দয়া এবং সহযোগিতা জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

নৈতিকতা:
অন্যের প্রতি দয়া করলে তা কোনো না কোনো সময়ে আমাদের নিজের উপকারে আসে।


ধূর্ত শিয়াল এবং বোকা কাক

 

একবার এক জঙ্গলে একটি শিয়াল এবং একটি কাক বাস করত। কাকটি ছিল খুবই অহঙ্কারী এবং নিজের কণ্ঠে গাইতে পছন্দ করত। সে ভাবত যে, তার কণ্ঠস্বরের তুলনা কোনও পাখির সাথে হতে পারে না।

একদিন, শিয়ালটি কাকটিকে দেখে এবং তার কণ্ঠস্বর শুনে ধূর্তভাবে পরিকল্পনা করে। সে জানত কাকটি খুব অহংকারী এবং সহজেই প্রতারিত হতে পারে। শিয়ালটি কাকের কাছে গিয়ে বলল, “তুমি তো সেরা গায়ক, আমি তোমার গানে মুগ্ধ। আমার এক বন্ধু রাজা, সে তোমাকে তার রাজ্যে আমন্ত্রণ জানাতে চায়। তোমার গান শুনে সে খুবই খুশি হবে। আমি তাকে তোমার গান শোনানোর জন্য তোমাকে নিয়ে যাব।”

কাকটি খুব খুশি হলো এবং ভাবল, “এই তো! আমি সত্যিই অনেক মহান গায়ক, এখন রাজা আমাকে তার রাজ্যে ডাকবে!” সে শিয়ালের কথা বিশ্বাস করে তার পিঠে বসে পড়ল।

শিয়ালটি তখন মিষ্টি মিষ্টি কথা বলার মাধ্যমে কাকটিকে একটি গভীর গুহায় নিয়ে গেল। গুহার মধ্যে ঢুকে শিয়ালটি বলল, “এখানে বসো, আমি রাজাকে ডাকতে যাই। তুমি এখানেই অপেক্ষা করো।”

কাকটি বসে থাকতে থাকতে ভাবল, “রাজা কি আমাকে আমন্ত্রণ জানাবে?” সে একটু সময় কাটানোর জন্য গান গাইতে শুরু করল। গান শেষ করার পরও শিয়াল ফিরে এল না। কাকটি কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠল।

শিয়ালটির আসল পরিকল্পনা ছিল কাকটিকে ফাঁদে ফেলা। সে যখন ফিরে এলো, তখন কাকটিকে খেয়ে ফেলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।

কাকটি বুঝতে পারল সে প্রতারিত হয়েছে। কিন্তু তার তো কিছু করার ছিল না। শেষমেশ, শিয়ালটি কাকটিকে খেয়ে ফেলে এবং তার অহঙ্কার আর বোকামির জন্য তাকে শিক্ষা দেয়।

শিক্ষা: অহংকার এবং বোকামি মানুষকে অনেক বিপদে ফেলতে পারে।


Sunday, December 29, 2024

দয়ালু সিংহ এবং কৃতজ্ঞ ইঁদুর


এক সময় একটি গহন অরণ্যে একটি দয়ালু সিংহ বাস করত। সিংহটি ছিল খুবই শক্তিশালী এবং তার রাজত্বের সমস্ত পশুদের উপর তার প্রভাব ছিল। একদিন সিংহটি অরণ্যের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে একটি খড়ের মধ্যে আটকে পড়ে, যেখানে তার বিশাল পা আটকে গিয়েছিল। সিংহটি চেষ্টা করছিল পালাতে, কিন্তু তার শক্তিশালী পা আটকে গিয়েছিল এবং সে খুবই ব্যথিত ও অসহায় হয়ে পড়েছিল।

ঠিক তখনই, এক ছোট্ট ইঁদুর সিংহের কাছে এসে উপস্থিত হল। ইঁদুরটি সিংহের দুঃস্থ অবস্থা দেখে ভয় পেয়েছিল, কিন্তু কিছুক্ষণের জন্য ভাবল, এরপর সে সাহস করে সিংহের কাছে এগিয়ে গেল।

"বড় দাদা, আমি জানি আপনি খুব শক্তিশালী, কিন্তু আপনি যদি আমাকে কিছু সাহায্য করতে বলেন, আমি চেষ্টা করব," ইঁদুরটি বিনয়ের সঙ্গে বলল।

সিংহটি হতাশ, কিন্তু সেও ভেবেছিল, "কী হবে? ছোট্ট ইঁদুর কি কিছু করতে পারবে?" তবে সে কিছু বলল না, শুধু বলল, "আমাকে সাহায্য করো, ছোট ভাই।"

ইঁদুরটি দ্রুত তার ক্ষুদ্র দাঁত দিয়ে সিংহের খড়ের ফাঁকে আটকে থাকা বাধাটি কেটে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সিংহটি মুক্ত হয়ে গেল।

"ধন্যবাদ, ছোট ইঁদুর!" সিংহটি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বলল। "তুমি আমাকে বাঁচিয়েছ!"

ইঁদুরটি হাসতে হাসতে বলল, "আপনি যে এত বড়, তার মানে এই নয় যে আপনি কখনো সাহায্যের প্রয়োজন পাবেন না। আমি জানতাম, একদিন আমি আপনার কাজে আসব!"

বছর ঘুরে গেল। একদিন সিংহটি অন্য একটি বড় বিপদে পড়ে গেল। একটি শিকারি সিংহের দিকে তীর ছুঁড়ে দিল এবং সিংহটি জড়িয়ে পড়ল এক জাল ফাঁদে। সিংহটি খুবই কষ্ট পাচ্ছিল, কিন্তু তাকে মুক্ত করতে কেউ ছিল না।

ঠিক তখনই সেই ছোট্ট ইঁদুর তার বন্ধুকে দেখতে পেল। ইঁদুরটি তাড়াতাড়ি ছুটে গেল এবং আবার তার শক্তিশালী দাঁত দিয়ে সিংহের জালের ফাঁক কেটে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সিংহটি আবার মুক্ত হয়ে গেল।

"তুমি আবার আমাকে বাঁচালে, ছোট ইঁদুর!" সিংহটি আনন্দিত হয়ে বলল। "আমি তো কখনো ভাবিনি তুমি এমন সাহসিকতা দেখাবে।"

ইঁদুরটি স্মিত হাসল এবং বলল, "আমি তো বলেছিলাম, একদিন আমি আপনার কাজে আসব!"

এভাবেই, দয়ালু সিংহ এবং কৃতজ্ঞ ইঁদুরের বন্ধুত্ব চিরকাল অটুট হয়ে রইল। তারা শিখেছিল, কখনো ছোটদের অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়, কারণ কখনও কখনও তারা সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী হতে পারে।

শিক্ষা: "যতই ছোট হোক না কেন, প্রতিটি জীবনের গুরুত্ব আছে এবং সকলের মধ্যে সাহস ও ক্ষমতা থাকতে পারে।"


Saturday, December 28, 2024

কৃষক ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির গল্প

 এক গ্রামে এক কৃষক ও এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি বাস করতেন। কৃষক ছিল সাধারণ, কিন্তু পরিশ্রমী এবং সত্‍তার প্রতীক। তার নাম ছিল রামু। সে প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগে মাঠে কাজ করতে যেত এবং সন্ধ্যা নামার আগে ফিরে আসত। তার মাঠ ছিল ছোট, কিন্তু সে খুব ভালোভাবে চাষাবাদ করত এবং সবার জন্যই একটি ভালো উদাহরণ ছিল।

অন্যদিকে, গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি থাকতেন, যিনি ছিলেন খুব ধনী এবং উচ্চ সমাজে গণ্য। তার নাম ছিল রাজু। রাজু অনেকটা অহংকারী এবং সবার উপর নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করত। সে সাধারণত কৃষকদের কাজকে তুচ্ছভাবে দেখত এবং মনে করত তার কাছে সব কিছুই সহজ এবং জাঁকজমকপূর্ণ।

একদিন, একটি বড় বন্যা গ্রামে আঘাত হানে। সমস্ত ধান ক্ষেত পানিতে ডুবে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গ্রামবাসীরা চিন্তিত হয়ে পড়ে, বিশেষ করে কৃষকরা। রামু, তার ক্ষতি সত্ত্বেও, হাল ছাড়ল না এবং আবার মাঠে কাজ করতে শুরু করল। সে জানত যে কাজ করেই তার ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠবে।

রাজু, যেহেতু কৃষক শ্রমের মূল্য বুঝত না, প্রথমে অবাক হয়ে দেখল কৃষকরা কীভাবে এত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সে নিজে কোনো সাহায্য করার চিন্তা করল না, বরং তার রাজকীয় বাড়িতে বসে ছিলেন। একদিন, রামু তার ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেতের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে রাজুকে দেখে বলল, "আপনি যদি কিছু সাহায্য করতেন, তবে আমাদের অনেক উপকার হতো।"

রাজু মুচকি হেসে বলল, "তুমি তো কৃষক, তোমাদের কাজই তো এভাবে চলতে থাকবে। আমার কি দরকার তোমাদের কাজে হাত লাগানো?"

কিন্তু, কিছুদিন পর, রাজুর নিজের ব্যবসা ধ্বংস হতে শুরু করল। তিনি যেসব বিশাল জমি ও সম্পত্তি রেখেছিলেন, তা একে একে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করল, কারণ তিনি নিজে কোনো পরিশ্রমী কাজ করেননি। সবকিছু হারিয়ে ফেলে রাজু বুঝতে পারল যে আসল শক্তি কেবল অর্থ বা ক্ষমতায় নয়, বরং পরিশ্রম ও সততায়।

রাজু অবশেষে রামুর কাছে গিয়ে বলল, "আমি তোমার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, রামু। তুমি সত্যিই পরিশ্রমী এবং তুমি জানো কীভাবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবন কাটাতে হয়। আমি যদি তোমার মতো পরিশ্রমী হতে পারতাম, তাহলে হয়তো আমি সব কিছু হারাতাম না।"

রামু হাসিমুখে উত্তর দিল, "জীবনে অনেক কিছু হারানোর চেয়ে অনেক কিছু শেখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর, পরিশ্রম এবং সততা একমাত্র এমন পথ, যেটি শেষ পর্যন্ত আমাদের সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়।"

এই ঘটনা থেকে রাজু শিক্ষিত হয়েছিলেন এবং পরবর্তী জীবনে তিনি আরো পরিশ্রমী ও ভদ্র হয়ে উঠেছিলেন। কৃষক রামু তার সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে গ্রামের জন্য একটি আদর্শ হয়ে উঠেছিল।


Here are some tips and tricks for writing a story about life:

Writing a life story can be a meaningful and creative endeavor, allowing you to preserve memories, reflect on experiences, and share your journey with others. Here's a step-by-step guide to help you get started:

1.Choose Your Focus

Memoir or Autobiography: Decide if you want to write about your entire life (autobiography) or focus on specific themes, periods, or events (memoir).

Purpose: Think about why you're writing this story. Is it for family, personal reflection, publication, or self-expression?

2.Outline Key Life Events

Break your life into chapters or sections:

Childhood: Early memories, family life, education, and key experiences.

Adolescence: Challenges, achievements, friendships, and growth.

Adulthood: Career, relationships, pivotal decisions, and personal development.

Milestones: Highlight defining moments, both good and bad, that shaped you.

3.Add Personal Details

Emotions and Insights:Share how events impacted you emotionally or changed your perspective.

Anecdotes:Include specific stories or moments that bring your experiences to life.

Relationships:Reflect on people who influenced you, positively or negatively.

4.Use a Narrative Style

Write your story as if you're telling it to someone:

First-Person Perspective:Make it personal and intimate.

Show, Don't Tell:Use vivid descriptions and sensory details to immerse readers in your experiences.

Dialogue: Include conversations where appropriate.

5.Reflect and Analyze

Share what you learned from your experiences.

How did challenges shape your character or outlook?

What advice or wisdom can you offer from your journey?

6. Edit and Polish

Write a draft and let it sit before revising.

Edit for clarity, grammar, and flow.

Consider asking someone you trust for feedback.

Would you like help drafting your story, organizing it, or focusing on specific parts? If you'd like, I can assist in creating an outline or even start writing the first draft for you. Let me know!

Friday, December 27, 2024

পাঁচ বন্ধু ও চতুর শিয়ালের গল্প

 

"ঐক্যই শক্তি(Unity is Strength)"

এক গ্রামে ছিল পাঁচ বন্ধু — রাজু, সেলিম, মীনা, সুমা, এবং হাসান। তারা সবাই খুব ভালো বন্ধু ছিল, কিন্তু নিজেদের মধ্যে একসাথে কোনো কাজ করতে কখনোই একযোগে কাজ করত না। প্রত্যেকে নিজস্ব কাজে ব্যস্ত থাকত এবং তারা কখনো একে অপরকে সাহায্য করত না।

একদিন গ্রামের কাছে একটি বিশাল গাছের নিচে একটি বড় ধরনের বন্য শিয়াল এসে উপস্থিত হয়। শিয়ালটি গ্রামের বাচ্চাদের আতঙ্কিত করে তোলে, এবং তাদের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার হয়। গ্রামবাসীরা চিন্তিত হয়ে পড়ে, কীভাবে শিয়ালটিকে তাড়ানো যাবে।

পাঁচ বন্ধু তখন একত্রে বসে এবং সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা শিয়ালটি তাড়ানোর জন্য কিছু করবে। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউই একে অপরকে সাহায্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করে না। সবার মনে ছিল যে তারা একা একা চেষ্টা করেই কাজটি শেষ করতে পারবে।

প্রথমে রাজু গাছের নিচে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করে শিয়ালটিকে তাড়ানোর। কিন্তু শিয়ালটি খুব চতুর ছিল এবং রাজুর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। এরপর সেলিমও চেষ্টা করে, কিন্তু তারও একই পরিণতি ঘটে। মীনা এবং সুমা চেষ্টা করে, কিন্তু তারা সবাই একে অপরকে সাহায্য না করার কারণে তাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এরপর হাসান বলল, "আমরা সবাই একসাথে কাজ করলে হয়তো কিছু করতে পারব। একতা থেকেই শক্তি আসে।"

তারা সবাই একত্রিত হয়ে পরিকল্পনা করল এবং শিয়ালটিকে একযোগে তাড়ানোর জন্য কাজ শুরু করল। রাজু শিয়ালটিকে ভয় দেখাতে শুরু করল, সেলিম গাছের চারপাশে দড়ি বাঁধল, মীনা এবং সুমা কিছু বড় বড় পাথর তুলে আনা শুরু করল, আর হাসান শিয়ালটিকে পালানোর পথ বন্ধ করে দিল।

শেষে, একসাথে তাদের প্রচেষ্টায় শিয়ালটি গ্রাম থেকে পালিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা আনন্দিত হয়ে তাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানায়।

তাদের এই অভিজ্ঞতা তাদের শিখিয়ে দেয় যে, একতা এবং সহযোগিতা না থাকলে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা কখনোই সফল হতে পারে না। একসাথে কাজ করলে যেকোনো বড় সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

শিক্ষা: একতা শক্তির উৎস, আর একসাথে কাজ করার মাধ্যমে আমরা অনেক বড় কিছু অর্জন করতে পারি

একটি লেজ ছাড়া শিয়াল

 

একদিন এক শিয়াল তার লেজ হারিয়ে ফেলল। তার লেজ ছিল খুব বড়, সুন্দর এবং লম্বা, যা তাকে খুব গর্বিত করত। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় তার লেজ কেটে পড়ল। শিয়াল খুব দুঃখিত হল, কারণ সে জানত না, এখন তার কি হবে। সে আর কোথাও তার আগের মতো গর্ব করে চলতে পারবে না।

এক সময় সে ঠিক করল, অন্যদের কাছে লেজ ছাড়া জীবন নিয়ে পরামর্শ নেবে। সে প্রথমে সিংহের কাছে গেল। সিংহ তার শক্তির জন্য বিখ্যাত, কিন্তু তার লেজও ছিল খুব ছোট। সিংহ বলল, "তুমি কি ভাবছো, লেজ দিয়ে সব কিছু সম্ভব? আমি ছোট লেজ নিয়ে অনেক বড় কাজ করি। লেজ হারানো, এটা কিছুই নয়।"

এরপর শিয়াল গিয়ে ভেবেছিল, ভাল্লুকের কাছে, যেটার লেজ নেই। ভাল্লুক বলল, "লেজ নিয়ে কি হবে? আমি তো লেজ ছাড়া এতদিন বেঁচে আছি। তুমি যদি মনে করো যে লেজ না থাকলে কিছু হারাবে, তাহলে তুমি ভুল।"

শিয়াল অনেক কিছু শিখল, তবে শেষে নিজেই বুঝতে পারল, তার লেজ না থাকলেও সে একদম ঠিক আছে। তার আগের মতো প্রাণবন্ত, চালাক, এবং জীবনের সব কাজ করার ক্ষমতা তার ছিল। তার লেজ একটি বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ মাত্র, আসল শক্তি তার মন এবং বুদ্ধির মধ্যে।

অতএব, শিয়াল শিখল যে, বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য হারানোর পরেও, মানুষ বা প্রাণী নিজের শক্তি ও আত্মবিশ্বাসে জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারে।


প্ল্যাটফর্ম সেভেনে শেষ আলো

প্ল্যাটফর্ম সেভেনে শেষ আলো প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি এসে থামত প্ল্যাটফর্ম সেভেনে। আর প্রতিদিনই এলিয়াস দাঁড়িয়ে থাকত সেখানে—...