Sunday, January 19, 2025

দুখু মিয়ার কাহিনী

 

এক গ্রামে বাস করত দুখু মিয়া নামে এক গরিব ছেলে। তার বাবা ছিলেন একজন কৃষক এবং মা গৃহিণী। দুখু মিয়া খুব ছোট বয়সে তার বাবাকে হারায়। ফলে সংসারের সব দায়িত্ব তার ওপর এসে পড়ে।

গ্রামে একটি বড় জমিদারের বাড়ি ছিল। দুখু মিয়া প্রায়শই জমিদারের জমিতে কাজ করত। কিন্তু জমিদার ছিলেন খুবই কঠোর এবং নির্মম। কাজের বিনিময়ে দুখু মিয়া সামান্য কিছু খাবার পেত। তবু সে কষ্ট করে মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করত।

একদিন, দুখু মিয়া কাজ থেকে ফেরার সময় বনের পাশ দিয়ে হাঁটছিল। হঠাৎ সে একটি কাঁদার শব্দ শুনতে পেল। ঝোপঝাড় সরিয়ে সে দেখতে পেল, একটি ছোট হরিণ ফাঁদে আটকে আছে। তার পা রক্তাক্ত হয়ে গেছে। দুখু মিয়া দ্রুত ফাঁদটি খুলে হরিণটিকে মুক্ত করে দেয়।

হরিণটি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাকায় এবং বলল, "তুমি আমার জীবন বাঁচিয়েছ, দুখু মিয়া। আমি জাদুর হরিণ। তোমার যে কোনো ইচ্ছা পূরণ করতে পারি।"

দুখু মিয়া প্রথমে বিশ্বাস করতে পারল না। কিন্তু হরিণ তাকে আশ্বাস দিল। তখন দুখু মিয়া বলল, "আমি শুধু আমার মাকে ভালো রাখতে চাই। আর যেন আমাদের অভাব না থাকে।"

হরিণটি তার শিং দিয়ে মাটি খোঁচা দিল এবং একটি সোনার মুদ্রা দিয়ে বলল, "তুমি যতবারই এই মুদ্রা ঘুরাবে, ততবারই তোমার প্রয়োজন মেটার জন্য ধন-সম্পদ পাবে। তবে লোভ কোরো না।"

দুখু মিয়া সেই মুদ্রা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেল। তার জীবনে দারিদ্র্য দূর হয়ে গেল। সে তার মাকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।

শিক্ষণীয় বিষয়:

লোভ না করে পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে জীবনে সুখী হওয়া যায়। দয়া ও সহানুভূতির মূল্য সব সময় পাওয়া যায়।

গোপাল ভাঁড় ও রাজার সোনার আম

 

গোপাল ভাঁড় ছিলেন নদীয়ার মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের দরবারের একজন বিখ্যাত হাস্যরসিক ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি। তাঁর বুদ্ধি ও হাস্যরসে ভরা গল্পগুলো আজও বাংলার ঘরে ঘরে শোনা যায়।

সোনার আমের গল্প

একদিন এক বিদেশি বণিক মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রকে উপহার দিল একটি সোনার আম। আমটি এতই দুর্লভ ও মূল্যবান ছিল যে, মহারাজ ঠিক করলেন এটি কেবলমাত্র সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিকেই দেওয়া হবে। তাই তিনি দরবারে ঘোষণা করলেন,
"যে ব্যক্তি নিজেকে সবচেয়ে জ্ঞানী প্রমাণ করতে পারবে, সেই পাবে এই সোনার আম।"

এই ঘোষণা শোনার পর দরবারের সবাই নিজেদের বুদ্ধি দেখানোর চেষ্টা করতে লাগল। কেউ কেউ কবিতা লিখল, কেউ দীর্ঘ বক্তৃতা দিল, আবার কেউ কেউ নানা ধরনের জটিল তর্ক শুরু করল। কিন্তু মহারাজ কাউকেই সন্তুষ্ট হতে পারলেন না।

তখন গোপাল ভাঁড় উঠে দাঁড়াল। মহারাজ মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করলেন,
"তুমি কীভাবে প্রমাণ করবে যে সোনার আমটি তোমার পাওয়ার যোগ্য?"

গোপাল হাসি মুখে বলল,
"মহারাজ, জ্ঞান কথায় নয়, কাজে প্রকাশ পায়। আপনি যদি আমটি আমাকে দেন, আমি প্রমাণ করে দেখাব কেন আমি এটি পাওয়ার যোগ্য।"

মহারাজ গোপালের আত্মবিশ্বাস দেখে আমটি তার হাতে দিলেন। গোপাল ধন্যবাদ জানিয়ে আমটি কেটে ছোট ছোট টুকরো করল। তারপর সেই টুকরোগুলো দরবারের সবাইকে ভাগ করে দিল, এমনকি মহারাজকেও।

এতে সবাই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
"এটাই কি তোমার জ্ঞান? আমাদের বলো, এতে কী বুদ্ধিমত্তা আছে?"

গোপাল মুচকি হেসে উত্তর দিল,
"মহারাজ, প্রকৃত জ্ঞান হলো সুখ ও আনন্দ ভাগ করে দেওয়া। এই সোনার আম কারো একার সম্পদ নয়, এটি আমাদের সকলের সম্পদ। আমি শুধু এই মিষ্টি ভাগ করে সবাইকে আনন্দ দিতে চেয়েছি।"

মহারাজ এই কথা শুনে খুশিতে হেসে উঠলেন।
"তুমি ঠিকই বলেছ, গোপাল! সত্যিকারের জ্ঞানী সেই, যে নিজের স্বার্থের বাইরে গিয়ে অন্যদের জন্য ভাবতে পারে। এই সোনার আমের প্রকৃত যোগ্য তুমি!"


গল্পের শিক্ষা

এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তি নিজের সুখ ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে অন্যের কল্যাণে কাজ করে। গোপাল ভাঁড়ের মতো চরিত্র বাংলার লোককাহিনিতে আমাদের বুদ্ধি ও মানবিকতার মূল্য বোঝায়।

আপনি চাইলে আরো গোপাল ভাঁড়ের গল্প বা অন্য কোনো লোককাহিনি শেয়ার করতে পারি! 

Friday, January 17, 2025

নকশী কাঁথার মাঠ

 

এক ছিল গ্রাম। সেই গ্রামের এক কোণে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরে থাকত রূপাই। রূপাই ছিল দরিদ্র কিন্তু অসাধারণ প্রতিভাবান। তার সুই-সুতোর কাজ দেখে গ্রামের সবাই মুগ্ধ। গাছপালা, নদী, পাখি—প্রকৃতির নানা রূপ তার সেলাইয়ে উঠে আসত।

রূপাইয়ের মা ছিলেন বিধবা। তাদের সংসারে সচ্ছলতা না থাকলেও সুখের অভাব ছিল না। রূপাই তার সূচিশিল্প দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু তার সবচেয়ে প্রিয় ছিল একটি পুরনো কাপড়, যা তার মা তাকে উপহার দিয়েছিলেন। সেই কাপড়ে সে একদিন "নকশী কাঁথা" বানাবে বলে স্বপ্ন দেখত।

একদিন পাশের গ্রামের এক কৃষক শাজু ফসল বিক্রি করতে রূপাইয়ের গ্রামে এলো। রূপাইয়ের সূচিশিল্প দেখে শাজু মুগ্ধ হয়ে গেল। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠল। বন্ধুত্ব প্রেমে রূপ নিল, এবং একদিন তারা বিয়ে করল।

রূপাই তার প্রিয় কাপড়টি নিয়ে শাজুর বাড়িতে এলো। সেখানে সে তার জীবনের গল্প সেলাই করতে শুরু করল। নদীর ধারে হাঁটতে যাওয়া, বটগাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেওয়া, আর রাতের তারা দেখা—সব স্মৃতি সে তার নকশী কাঁথায় ধরে রাখল।

কিন্তু তাদের সুখ দীর্ঘস্থায়ী হলো না। এক বর্ষায় ভয়ংকর বন্যা এল। গ্রামের ফসল নষ্ট হলো, মানুষ ঘরবাড়ি হারাল। শাজু কাজের সন্ধানে শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। যাওয়ার আগে সে রূপাইকে কথা দিল, খুব শিগগিরই ফিরে আসবে।

দিন, মাস, বছর পেরিয়ে গেল। কিন্তু শাজু আর ফিরে এলো না। লোকজন বলল, হয়তো সে শহরে অন্য জীবন শুরু করেছে। কিন্তু রূপাই এসব কথায় কান দিল না। সে বিশ্বাস করত, শাজু একদিন ফিরে আসবে। তার নকশী কাঁথায় সে তার অপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত সেলাই করল।

একদিন গভীর রাতে ঝড়ের সময় দরজায় কড়া পড়ল। রূপাই দরজা খুলে দেখল, ভেজা আর ক্লান্ত শাজু দাঁড়িয়ে আছে। শাজু অনেক কষ্টের পর ফিরেছে। তাদের ভালোবাসা, ধৈর্য আর অপেক্ষার গল্প যেন নতুনভাবে শুরু হলো।

গ্রামের লোকেরা তাদের ফিরে আসা উদ্‌যাপন করল। আর রূপাইয়ের নকশী কাঁথা হয়ে উঠল ভালোবাসা ও সহনশীলতার প্রতীক।


শিক্ষা: ভালোবাসা ও ধৈর্যের মাধ্যমে সব বাধা অতিক্রম করা যায়। যে সম্পর্ক সত্য, তা সবসময় টিকে থাকে।

Monday, January 13, 2025

“একটি ছোট বালতি ও একটি বড় শিক্ষা”


এক গ্রামে ছিল এক বুড়ো কৃষক। তার ছিল দুইটি বালতি। প্রতিদিন সকালে সে বালতিতে পানি ভরে নিজের জমিতে যেতো। তবে একটি বালতিতে ছিল ছোট্ট একটি ফাটল। আর অন্য বালতিটি সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল।

প্রতিদিন বুড়ো কৃষক যখন ফাটা বালতিতে পানি ভরে জমিতে যেত, তখন পথের অর্ধেক যেতেই সেই বালতির অর্ধেক পানি পড়ে যেত। অক্ষত বালতিটি গর্ব করত, কারণ তার মাধ্যমে পুরো পানি জমিতে পৌঁছাত।

কিন্তু ফাটা বালতিটি লজ্জিত ছিল। সে ভাবত, “আমি তো বুড়ো মালিকের কোনো কাজে আসছি না। অর্ধেক পানি আমি ফেলেই দিচ্ছি।”

একদিন ফাটা বালতিটি দুঃখিত হয়ে কৃষককে বলল,
— “আমি আপনার কোনো কাজেই লাগছি না। আমি অর্ধেক কাজ করতে পারি। আপনার তো আমার বদলে নতুন বালতি নেওয়া উচিত।”

বুড়ো কৃষক মৃদু হেসে বললেন,
— “আগামীকাল তোমার দিকে মনোযোগ দিয়ে দেখো।”

পরের দিন কৃষক ফাটা বালতিতে পানি ভরে নিয়ে চললেন। বালতিটি লক্ষ্য করল যে পথের এক পাশ দিয়ে যেখানে সে পানি ফেলছিল, সেখান দিয়ে নানা রঙের ফুল ফুটে আছে। কৃষক তখন বললেন,
— “দেখলে তো! তোমার ফাটল থেকেই এই সুন্দর ফুলগুলো ফুটেছে। আমি সেই ফুলগুলো দিয়ে প্রতিদিন বাড়ি সাজাই। তুমি না থাকলে এই সৌন্দর্যও থাকত না।”

শিক্ষা:

আমাদের প্রতিটি মানুষের মধ্যেই কোনো না কোনো দুর্বলতা থাকতে পারে। কিন্তু সেই দুর্বলতাই আমাদের বিশেষত্ব তৈরি করে। নিজেকে ছোট না ভেবে নিজের ভালো দিকগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

Saturday, January 11, 2025

শান্ত সকালে গ্রামবাংলার গল্প


সকালটা বেশ শান্ত। পূর্ব আকাশে সূর্যের প্রথম আলো সোনালি আভা ছড়িয়ে দিয়েছে পুরো গ্রামজুড়ে। নদীর তীরে ছোট ছোট খড়ের ছাউনি দেওয়া কুটিরগুলো দাঁড়িয়ে আছে নীরবে, যেন প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছে।

ছোট্ট মেঠোপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে শাওন এসে বসে তার প্রিয় কাঠের ঘাটে। বাঁশের তৈরি মাছ ধরার ছিপটা পানিতে ফেলে রেখে মন দিয়ে তাকিয়ে আছে নদীর স্রোতের দিকে। মাঝে মাঝে হালকা হাওয়ায় ছিপটা দুলে ওঠে, শাওনের মুখে মৃদু হাসি খেলে যায়।

ওদিকে ঘাটের একটু দূরে, মা মাটির কলসি হাতে নদীর জল ভরতে ব্যস্ত। কলসির পানিতে সকালের আলো পড়ায় যেন মুক্তোর ঝিলিক উঠেছে। নদীর ধারে খেলা করছে গ্রামের অন্য শিশুরা। কেউ পাখির পেছনে ছুটছে, কেউবা বালু দিয়ে দুর্গ বানাচ্ছে। তাদের উচ্ছ্বাসে গ্রামের শান্ত পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

সন্ধ্যায় আবার সবাই বাড়ির পথে ফিরবে, তবে এই সকালটা যেন ছিল প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে থাকার মুহূর্ত। শাওন ভাবে, এ গ্রামের জীবন বড়ই সুন্দর—সাদামাটা, কিন্তু শান্তিতে ভরা।

শেষ।

স্বপ্নের সেতু


ছোট্ট একটি গ্রাম ছিল নদীর পাড়, নাম তার “স্বপ্নপুর।” চারদিকে সবুজ মাঠ আর মাঝখানে টলমল নদী। গ্রামের মানুষ ছিল খুব সৎ আর পরিশ্রমী, তবে তাদের একটা বড় সমস্যা ছিল—একটি সেতুর অভাব। বর্ষাকালে নদী ফুলে উঠলে গ্রামের মানুষ শহরে যেতে পারত না।

সেই গ্রামেই থাকত ছোট্ট ছেলেটি, নাম আরিফ। আরিফের স্বপ্ন ছিল একদিন তাদের গ্রামে একটা সেতু হবে, যা দিয়ে সবাই সহজেই শহরে যাতায়াত করতে পারবে। প্রতিদিন নদীর ধারে বসে সে স্বপ্ন দেখত—নদীর উপর একটা লম্বা সেতু, আর সেখান দিয়ে হাঁটছে গ্রামের মানুষ।

একদিন গ্রামের মেলায় এক বৃদ্ধ আরিফকে ডেকে বললেন, “তোমার চোখে স্বপ্ন দেখেছি। তোমার স্বপ্ন সত্যি করার উপায় আছে, কিন্তু তার জন্য সাহস আর পরিশ্রম লাগবে। নদীর পাড়ে গিয়ে চোখ বন্ধ করে স্বপ্ন দেখো, তারপর তোমার কাজ শুরু করো।”

বৃদ্ধের কথা শুনে আরিফ হেসে ভাবল, "স্বপ্ন দিয়ে কি আর সেতু বানানো যায়?" কিন্তু সে হাল ছাড়ল না। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে নদীর ধারে গিয়ে মাটিতে আঁকিবুকি কাটত—কেমন হবে সেই সেতু।

একদিন আরিফের আঁকা সেতুর নকশা দেখে গ্রামের বড়দের মাথায় নতুন বুদ্ধি এলো। তারা সবাই মিলে গ্রাম থেকে চাঁদা তুলতে শুরু করল। শহর থেকে একজন ইঞ্জিনিয়ার আনল সেতু বানানোর জন্য।

বছরের পর বছর পরিশ্রমের পর অবশেষে সেই সেতু তৈরি হলো। আরিফের ছোট্ট স্বপ্ন এবার সত্যি হয়ে গেল। গ্রামের মানুষ সবাই তাকে ধন্যবাদ জানাল। আরিফ বুঝল, স্বপ্ন দেখতে জানতে হয়, তবে সেই স্বপ্ন পূরণে পরিশ্রমই আসল চাবিকাঠি।

মোরাল: স্বপ্ন যদি মনের ভেতর শক্ত করে আঁকড়ে ধরা যায়, তবে কোনো বাধাই সেটাকে থামাতে পারে না।

Wednesday, January 1, 2025

মিথ্যাবাদী রাখাল

 

এক সময়, একটি শান্ত উপত্যকায় অবস্থিত একটি ছোট গ্রামে, একটি যুবক রাখাল ছিল। তিনি গ্রামের ভেড়ার পাল দেখার দায়িত্বে ছিলেন, নিশ্চিত করতেন যে তারা নিরাপদ এবং ভালোভাবে পরিচর্যা করছে। গ্রামবাসীরা এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য তাকে বিশ্বাস করেছিল, এবং সে নির্ভরযোগ্য হওয়ার জন্য একটি ভাল খ্যাতি অর্জন করেছিল, বা তাই মনে হয়েছিল।

যাইহোক, সারাদিন ভেড়া দেখার একঘেয়ে কাজ দেখে রাখাল বিরক্ত হয়ে গেল। একদিন, নিজেকে বিনোদনের প্রয়াসে, তিনি চিৎকার করার সিদ্ধান্ত নেন, "নেকড়ে! নেকড়ে! একটি নেকড়ে ভেড়াকে আক্রমণ করছে!"

গ্রামবাসীরা, তার কান্না শুনে, তার সাহায্যের জন্য ছুটে আসে, অনুমিত নেকড়েটির সাথে লড়াই করার জন্য তাদের হাতিয়ারগুলি ধরে। কিন্তু যখন তারা পৌঁছে, তারা দেখতে পেল রাখাল হাসছে, ভেড়া শান্তভাবে চরছে, আর কোন নেকড়ে দেখতে পাচ্ছে না। রাখাল কেবল মজা করার জন্য গল্পটি তৈরি করেছিল। গ্রামবাসীরা বিরক্ত হলেও তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিল, ভেবেছিল এটা একটা নিরীহ প্র্যাঙ্ক।

পরের সপ্তাহে, রাখাল আবার মিথ্যার পুনরাবৃত্তি করল। "নেকড়ে! নেকড়ে!" তিনি কাঁদলেন, এবং আরও একবার, গ্রামবাসীরা সাহায্য করতে ছুটে এল। কিন্তু আবারও, কোন নেকড়ে ছিল না। এইবার, গ্রামবাসীরা তার উপর আরও বিরক্ত হয়েছিল, কিন্তু রাখালটি কেবল হাসল এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছিল, বিশ্বাস করে এটি এখনও একটি রসিকতা ছিল।

কয়েকদিন পরে, রাখাল যখন পালের দিকে নজর রাখছিল, তখন একটি আসল নেকড়ে হাজির, চুপিসারে ভেড়ার দিকে হেঁটে আসছে। আতঙ্কিত, রাখাল চেঁচিয়ে উঠল, "নেকড়ে! নেকড়ে!" যত জোরে সে পারে। কিন্তু এবার, গ্রামবাসীরা রাখালের আগের মিথ্যা সতর্কতার কথা মনে করে, তার কান্না উপেক্ষা করে। তারা ভেবেছিল এটা অন্য প্র্যাঙ্ক।

নেকড়ে ভেড়ার উপর আক্রমণ করে, বিশৃঙ্খলা ও ভয়ের সৃষ্টি করে। গ্রামবাসীরা যখন বিপদ বুঝতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। অনেক মেষ হারিয়ে গিয়েছিল এবং মেষপালক তার মিথ্যার পরিণতি দেখে হৃদয় ভেঙে পড়েছিল।

পাঠ:

গ্রামবাসীরা সদয় কিন্তু তাদের প্রতিক্রিয়ায় দৃঢ় ছিল। তারা রাখালকে বলেছিল যে বারবার মিথ্যা বলে সে তাদের বিশ্বাস হারিয়েছে। উপকথার নৈতিকতা স্পষ্ট: "কেউ মিথ্যাবাদীকে বিশ্বাস করে না, এমনকি যখন তারা সত্য বলে।" তাদের বিশ্বাসকে অনেকবার অসম্মান করে, মেষপালক এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল যেখানে তার সততা আর বিশ্বাস করা হয় না যখন এটি সত্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।


এই গল্পটি অসততার পরিণতি এবং কীভাবে মিথ্যা বলা সেই বিশ্বাসকে নষ্ট করে দিতে পারে যা সুস্থ সম্পর্কের জন্য অপরিহার্য, তা গ্রামে হোক বা তার বাইরে।


একটি দয়ালু কৃষক এবং একটি অকৃতজ্ঞ বিড়ালছানা

 

একবার এক গ্রামে একটি দয়ালু কৃষক বাস করত। তার নাম ছিল রামু। রামু খুব ভালো মানুষ ছিল এবং সব সময় গরীব ও অসহায়দের সাহায্য করত। একদিন, তিনি মাঠে কাজ করতে গিয়ে একটি ছোট বিড়ালছানাকে দেখতে পেল। বিড়ালছানাটি কাঁদছিল এবং ভীষণ ভয় পেয়েছিল। রামু তা দেখে বিড়ালছানাটি কোলে তুলে নিল এবং বাড়িতে নিয়ে এল।

রামু বিড়ালছানাটিকে তার বাড়িতে পরিচর্যা করতে লাগল। তাকে দুধ খাওয়াল, গরম শোয়া জায়গা তৈরি করে দিল এবং অনেক যত্ন নিল। বিড়ালছানাটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠল এবং শক্তিশালী হল।

কিন্তু বিড়ালছানা যখন বড় হলো, তখন সে রামুর প্রতি আর আগের মতো কৃতজ্ঞ থাকল না। তার মন ছিল একেবারে বদলে গিয়েছে। সে রামুর বাড়ির খাবার খেত, কিন্তু যখন রামু তাকে কিছু সাহায্য করতে বলত, তখন বিড়ালছানা এড়িয়ে চলত। সে খুবই অহঙ্কারি হয়ে উঠেছিল এবং রামুর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করত।

একদিন, রামু কৃষি কাজের জন্য মাঠে গেল, এবং বিড়ালছানাটি তার বাড়ির সামনে বসে ছিল। কিছু সময় পরে, বিড়ালছানা হঠাৎ একটি ছোট পাখি দেখতে পায় এবং সেটিকে তাড়া করে। কিন্তু পাখিটি একটি গাছের ডালে উঠতে পারে, আর বিড়ালছানাটি নিচে পড়ে যায় এবং আঘাত পায়।

বিড়ালছানা তখন খুব কাঁদতে থাকে। রামু বাড়ি ফিরে এসে বিড়ালছানাটিকে কাঁদতে দেখে, দয়া করে আবার তার কোলে তুলে নিয়ে যায়। সে বিড়ালছানাকে ভালো করে চিকিৎসা করল এবং বলল, “আমি জানি তুমি এখনো আমার সাহায্য চাইছো, তবে মনে রেখো, সবার আগে কৃতজ্ঞতা মনে রাখা উচিত।"

বিড়ালছানা তখন কিছুটা বুঝতে পারে। যদিও সে আগে রামুর প্রতি অকৃতজ্ঞ ছিল, এখন সে জানতে পারে যে, দয়া ও সহানুভূতির মূল্য অনেক বড়।

এভাবে, বিড়ালছানা রামুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শিখল এবং তাদের বন্ধুত্ব আবার আগের মতোই শক্তিশালী হয়ে উঠল।

শিক্ষা: কৃতজ্ঞতা এবং দয়া মানুষের সম্পর্ককে মজবুত করে, এবং অহংকার মানুষের উন্নতি বন্ধ করতে পারে।

প্ল্যাটফর্ম সেভেনে শেষ আলো

প্ল্যাটফর্ম সেভেনে শেষ আলো প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি এসে থামত প্ল্যাটফর্ম সেভেনে। আর প্রতিদিনই এলিয়াস দাঁড়িয়ে থাকত সেখানে—...